কাবুল বিজয়ঃ আফগানিস্তানের স্বাধীনতার ৪ বছর

আফগানিস্তান: ১৫ই আগস্ট ২০২১― আজকের এই দিনে আফগানিস্তানে ২০ বছরের মার্কিন ও ন্যাটো জোটের দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে তালিবান যোদ্ধারা। বিশ বছর ধরে আফগান সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে ৮৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা মাত্র এক মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়েছিল।
তালিবান মুজাহিদিনরা ১৫ আগস্ট (২০২১ সাল) দুপুরের পর থেকেই চার দিক থেকে কাবুলকে ঘিরে ফেলতে থাকেন। এসময় মুজাহিদিনরা রাজধানীতে বড়ধরণের যুদ্ধ এড়াতে কাবুল প্রশাসনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে রাজধানী হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কাবুল প্রশাসনের প্রায় সকল নেতা এবং প্রতিনিধি রাজধানী ছেড়ে পালিয়ে যায়। ফলে এদিন আলোচনা করার জন্য রাজধানীতে কাবুল প্রশাসনের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় নি। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী কাবুলে লুটপাটের ভয় এবং নেতৃত্বের শূন্যতার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশংকা দেখা দেয়, ফলে শহরের প্রবীণরা তালিবানদের দ্রুত কাবুলে আমন্ত্রণ জানান। তখন সময়টা ১৫ আগস্ট বিকেল বেলা, তালিবান মুজাহিদিনরা রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করতে শুরু করেন এবং বিনা সংঘর্ষে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মুজাহিদিনরা দেশটিতে আবারো ‘ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা করেন। এসময় মার্কিন বাহিনী কাবুল বিমানবন্দরে আশ্রয় নিয় এবং সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে থাকে। আর আগস্টের শেষের দিকে আগ্রাসী মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণরূপে আফগানিস্তান ত্যাগ করে। তালিবান মুজাহিদিন কর্তৃক কাবুলের নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে ঐ বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো জোট চূড়ান্তভাবে পরাজয় বরণ করে। আর তালিবান মুজাহিদিনরা ২০ বছরের এই যুদ্ধে জয়ী হয়ে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন।


যুক্তরাষ্ট্র পূর্ববর্তী আফগান সরকারকে তার জনগণ ও অবকাঠামো, 'গণতন্ত্র' এবং আনুগত্য অর্জনের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছিল। কিন্তু সেসময়ের সরকাররা সেটা না করে, দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ও পারিবারিক সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয় আফগানদের ওপর 'গণতন্ত্র' চাপিয়ে দিতে, ঠিক যেমন সোভিয়েতরা আফগানিস্তানের উপর কমিউনিজম চাপিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছিল।
আল জাজিরা/আল ফিরদাউস/এপি/
